কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫ এ ১০:৩২ PM
কন্টেন্ট: পাতা
দেশে দরিদ্র পরিবারের পিতৃহীন, মাতৃহীন ও পিতৃ-মাতৃহীন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর লালন পালন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত এতিমখানা/সংস্থা/আশ্রমসমূহ স্থানীয় সম্পদ আহরণ এবং বিভিন্ন ধরণের দান-অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। বেসরকারি এতিমখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমাজসেবা অধিদফতর হতে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। বেসরকারিভাবে এতিমখানাসমূহ প্রথমতঃ স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন প্রদান এবং পরবর্তীতে নিবন্ধন প্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানাসমূহের শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয় যা ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট নামে পরিচিত।
ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রদানের ক্ষেত্রে ‘ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ ও বন্টন নীতিমালা ২০২৪’ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রদানে আর্থিক শৃঙ্খলা সুসংহত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর পর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। আশা করা যায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিপালনে বেসরকারি পর্যায়ে উৎসাহব্যাঞ্জক সাড়া সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানার উন্মুক্ত স্থানে নাম ফলক লাগানো হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমান শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিবাসীদের দ্বারা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টগণ
ক্যাপিটেশন গ্রান্টের বরাদ্দ প্রদানের কাজ করে থাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি ও শাখা। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান অধিশাখার নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট শাখা এই অধিদপ্তর পর্যায়ে সমন্বয় করে। পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা অফিসার সদর দপ্তর পর্যায়ে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট। জেলা পর্যায়ের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এবং শহর সমাজসেবা অফিসার মাঠ পর্যায়ের বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট কার্যক্রম তদারকি এবং মাঠ পর্যায় ও সদর দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন।
সেবা
অর্থবছরভিত্তিক ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট এর হিসাব
দেশের অসহায় এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত নিবাসীদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগে বেসরকারি এতিমখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আনুমানিক ৬০ (ষাট) দশকের গোড়ার দিকে নিবাসী প্রতি মাথাপিছু মাসিক ৩৬০/- টাকা হারে অনুদান (ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট) প্রদান করে আসছে। সমাজসেবা অধিদফতর র্কতৃক নিবন্ধকৃত বেসরকারি এতিমখানার নীতিমালার ৯.১২ এর আলোকে নূন্যতম ১০ (দশ) জন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলে নিবাসী অবস্থান করে এই রকম প্রতিষ্ঠানকে র্সবোচ্চ ৫০% এবং মেয়ে নিবাসীদের জন্য ৭৫% ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। ২০১৯-২০২০ র্অথ বছর হতে নিবাসীদের মাথাপিছু মাসিক ২,০০০/- টাকা করে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট দেওয়া হয়, যার বিভাজন: খাদ্য বাবদ ১৬০০/-, পোষাক বাবদ ২০০/- এবং ঔষধ ও অন্যান্য বাবদ ২০০/- টাকা। বিগত ১৯৯১-১৯৯২ হতে অদ্যাবধি ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য নিম্নে দেওয়া হলোঃ
সেবা গ্রহীতা
১. পিতৃহীন, মাতৃহীন বা পিতৃমাতৃহীন শিশু;
২. পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের কারণে যেকোন একজনের গৃহে অবস্থানকারী শিশু।
৩. শিশু আইন ২০১৩ এর ৮৯ ধারায় এ বর্ণিত সুবিধাবঞ্চিত শিশু
সেবাদান কেন্দ্র
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়।
আইনগত ভিত্তি
আইনগত ভিত্তি
স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১
স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি ১৯৬২
বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা ২০১৫
ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নীতিমালা- ২০২৪
সেবা প্রদান পদ্ধতি (সংক্ষেপে)
বেসরকারি এতিমখানাটিকে সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধিত হতে হবে এবং এতিমখানাটিতে ন্যূনতম ১০ জন ৬-১৮ বছরের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত নিবাসী থাকতে হবে। ১০০% নিবাসী প্রাথমিক / মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত ফরমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকা বরাবর ৩১ জুলাই এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কার্যালয়ে আবেদন দাখিল করতে হয় । ১০ আগষ্টের এর মধ্যে উপজেলা অফিস হতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ২০ আগস্ট এর মধ্যে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় এবং ৩১ আগস্ট সমাজসেবা অধিদফতরে বেসরকারি এতিমখানার তথ্য প্রেরণ নিশ্চিত করতে হয়। অতঃপর সমাজসেবা অধিদফতর হতে ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক মনোনিত বেসরকারি এতিমখানার বিপরীতে বরাদ্দপত্র অধিদফতর বরাবর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রেরণ করা হয়। অধিদফতর কর্তৃক সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়/শহর সমাজসেবা কার্যালয় বরাবর iBAS++ এ এন্ট্রি ও অনুমোদন দেওয়া করা হয়। প্রাপ্ত বরাদ্দের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট অফিসারের নিকট বিল দাখিল করলে যাচাই বাছাইপূর্বক উক্ত বিল পাশ করে তা উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার কর্তৃক বিল পাশ করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের দাপ্তরিক হিসেবে জমা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সংশ্লিষ্ট এতিমখানার সভাপতি/ সম্পাদকের অনুকূলে ক্রস চেকের মাধ্যমে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট হস্তান্তর করেন।
নাগরিকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র
সেবা প্রদানের সময়সীমা
প্রতি অর্থবছর ০২ (দুই) বার অর্থাৎ জুন/ডিসেম্বর মাসে ক্যাপিটেশন গ্রান্টের বরাদ্দ
যার সাথে যোগাযোগ করতে হবে